প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তার দেওয়া সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়ে তিনি বলেছেন,‘ ভালো থাকুক, আমার প্রিয় স্বদেশ, শান্তিপূর্ণ থাকুক বাংলাদেশ।’ মঙ্গলবার সকালে ক্ষমা চেয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান।
তিনি আরও বলেছেন, যারা তার কথায় আঘাত পেয়েছেন তাদের সবার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
সম্প্রতি তার একটি বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওই বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে। শরীয়তপুরে মানহানির একটি মামলায় সমনও জারি করা হয়। অন্যদিকে কিডনি জটিলতায় বর্তমানে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে আলাল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ধর্মীয় আচারের প্রতি ইঙ্গিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও সমালোচনা করেন তিনি। এই ধরনের মন্তব্য সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তৈরি করতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ব্যক্তিগত নোটে বিএনপির এই নেতা বলেছেন, আলাল নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলেন,`আমি আমার জন্মভূমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। আমার শরীরে একটি গুরুতর সার্জারি হয়েছে। তাই আমার পরিবার আমাকে সব ধরনের নেতিবাচক খবর থেকে দূরে রাখছে।‘
`তবে আমি জানতে পেরেছি যে, আমার অতীতের একটি বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।‘
তিনি আরও বলেন, `দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইচ্ছাকৃতভাবে আমি কারো সম্মান, অনুভূতি ও বিশ্বাসে আঘাত করিনি। তবে মানুষ হিসেবে আমি তো ভুলের ঊর্ধ্বে নই।”
যে বা যারাই তার বক্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন তাদের সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আলাল লিখেছেন, “উক্ত বক্তব্য আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্বদেশ, শান্তিপূর্ণ থাকুক বাংলাদেশ।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় গত ১২ ডিসেম্বর খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মোসাদ্দেক জায়গিরদার নামে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী ও বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী সহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সি-তাজ২৪.কম/এস.টি