চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরুল আমিনের পুত্রবধূ রেহেনুমা ফেরদৌসের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, রেহেনুমা আত্মহত্যা করেছে। বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, রেহেনুমাকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় পাহাড়তলী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রেহেনুমা কাউন্সিলর নূরুল আমিনের ছেলে ব্যাংকার নওশাদুল আমিনের স্ত্রী। চসিকের আলকরণ ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা তারেক সোলায়মান তার চাচা। তার দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগী রেহেনুমার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়, রেহেনুমা আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ এসে লাশ মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। তাছাড়া মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রহস্যজনক এই মৃত্যুর পর সামনে এসেছে পারিবারিক কলহ-বিবাদ ও নির্যাতনের বেশকিছু ঘটনা।
রেহেনুমার পিতা তারেক ইমতিয়াজ বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা আত্মহত্যার গল্প সাজিয়েছে। তারা বলছেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমরা মেয়ের লাশ পেয়েছি বিছানায়। এছাড়া ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করলে জিহ্বা ও চোখ বাইরে বেরিয়ে আসার কথা। কিন্তু আমার মেয়ের জিহ্বা ছিল স্বাভাবিক। আর চোখ একেবারেই বন্ধ ছিল। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা এসব বলছেন।’
কাউন্সিলর নূরুল আমিনের পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তারা যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। মেয়ের শ্বশুরবাড়িকে খুশি করতে আমি সামর্থ্য মতো চেষ্টা করেছি। বিয়ের সময় সকল আসবাবপত্র, ফলের মৌসুমে ফল, ঈদের সময় যাবতীয় জিনিসপত্র, কোরবানির সময় গরু দিয়েছি। কিন্তু মেয়ের শাশুড়ি কখনই সন্তুষ্ট ছিল না। আর মায়ের কথা ধরে ছেলে নির্যাতন করতো।’ তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে মেয়ের বিয়ে হলেও গত সাড়ে ৩ বছর ধরেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। কিন্তু মেয়ে আমাদের কখনোই এসব জানায়নি। এবার ঈদে মিলাদুন্নবীতে মেয়ে এসব আমাদের জানায়। এমনকি তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়ে গত রমজান ও ঈদ আমাদের সঙ্গেই করেছে। প্রায় ৩ মাস মেয়ে আমাদের বাসায় ছিল। পরবর্তীতে সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মধ্যস্থতায় আমরা মেয়েকে তাদের কাছে পাঠাই। কিন্তু সেই যাওয়াই যে শেষ যাওয়া হবে তা কে জানতো?’
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা লাশ নিয়ে এসেছি। তবে ছেলের পরিবারের দাবি এটি আত্মহত্যা। আর মেয়ের পরিবারের দাবি হত্যা। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি ক্লিয়ার হওয়া যাবে।
সি-তাজ২৪.কম/এস.টি