আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতার আগে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতৈক্য প্রয়োজন।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হামলার প্রতিবাদে প্রথমে আলোচনায় অনীহা প্রকাশ করলেও পরে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রধান উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতি। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান চুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে লেবানন-ইসরায়েল উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় বসেছেন এবং হামলা সীমিত করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্ব কূটনীতির নজর এখন তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা এবং লেবানন পরিস্থিতির দিকে। আগামী কয়েক দিনের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/এস.টি