G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না: ডা. শফিকুর রহমান

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য

0

সিতাজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতাকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই তার জবাব দেবে।

জনগণের রায় উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনরায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। যে সরকার জনগণের রায়কে সম্মান করে না, সে সরকার প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার হতে পারে না।”

তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয়করণের অভিযোগ

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে দলীয়করণ এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতা বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, “সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা। কিন্তু জনগণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, “এই দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।”

তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সমাবেশে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

তিনি দাবি করেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

“দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে,” বলেন তিনি।

সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংসদেও আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলব। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে সংসদে এবং রাজপথে সমানভাবে।”

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মামলা, হামলা, ভয়ভীতি কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমন করা সম্ভব নয়।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু তুলে ধরা হয়। বক্তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান জনগণের রায়ের গুরুত্ব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে আসে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

সিতাজ/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.