নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগে অসহায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারীদের ঠুটি চেপে ধরে একের পর এক টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাদ্ধের টাকা কর্মীদের মধ্যে ঠিক মত পরিশোধ না করা, প্রমোশন ও চাকরি স্থায়ী করণের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আর্থিক কেলেংকারী হয়েছে।
সেখানে দীর্ঘকাল ধরে টাকার খেলা চললেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়ররাও কিছু করতে পারেন না। সাধু ও সংঘবদ্ধ চক্র তাদের ঘিরে রাখে! অনেক সময় দুর্নীতির তথ্য মেয়রের কান পর্যন্ত পৌঁছে না। তার আগেই তা ধামা চাপা পড়ে যায়। এর পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী চক্র।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ইপিআই কার্যক্রম সিভিল সার্জনের অধীনে চলে যাচ্ছে! তা ঠেকাতে চসিকের উপরের মহলে দিতে হবে প্রচার করে স্বাস্থ্য বিভাগের ৫ জোন থেকে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, কাপাশগোলা জোনের ৬ ওয়ার্ড হতে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য জোনেও একইভাবে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
চসিকের ইপিআই কর্মীদের জেলা সিভিল সার্জনের অধীনে নিয়ে যাওয়ার তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তথ্যটি সঠিক নয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে চসিকের ইপিআই কার্যক্রম পরচিালনার সরকারি কোন নির্দেশনা নেই। তবে তিনি জানান, মেয়র আগেই জানিয়েছেন, চসিক ইপিআই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ইপিআই কার্যক্রম চসিক হতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে চলে যাওয়া ঠেকাতে সম্প্রতি চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগে চাঁদা তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে, তিনি জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। ঘটনার ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জনপ্রতি ৫/১০ হাজার টাকা করে আদায়ের ঘটনা নিয়ে কাপাশগোলা জোনে গত কয়েকদিন ধরে চলছে চাপা উত্তেজনা। সাধারণ স্বাস্থ্য সহকারীরা যারা দিনে আনে দিনে খায় এমন লোকদের কাছ থেকে ২দিনের নোটিশে ঐ টাকা আদায়েরর ঘটনায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ইপিআই কার্যক্রম চসিকে ধরে রাখার জন্য ঐ চাঁদা তোলা হয়েছে। এই টাকা চসিকের উপরের মহলে দেয়া হবে প্রচার করা হয়েছে। কাপাশগোলা জোনের টাকা টেকনিশিয়ান মৃণাল দাস ও স্বাস্থ্য সহকারী হামিদা বেগমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
চসিক প্রধান নির্বাহীকর্মকর্তা ও সচিব (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আমিন এর সাথে স্বাক্ষাৎ করলে, তিনি জানান – আমি এবং মেয়র সাহেব স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মসূচি গুলোয় গিয়ে উদ্ভোধন ও শিশুদের টিকা খাওয়ানো মতে কাজ সেরে চলে আসি অন্য কাজ বিষয়গুলো স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দেখাশুনা করেন।
চসিক ইপিআই কর্মীদের সিভিল সার্জনের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কী না জানতে চাইলে , তিনি বলেন সে বিষয়ে তার জানা নেই। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া ঠেকানোর নামে চকবাজার ওর্য়াড স্বাস্থ্য সহকারী হামিদা ও টেকনিশিয়ান মৃনাল দাস মোটা অংকের চাঁদা তুলেছেন এমন তথ্যে চসিক প্রধান নির্বাহীকর্মকর্তা বলেন, সে রকম কিছু হয়ে থাকলে তা অগ্রহণযোগ্য। অন্যায়।
কাপাশগোলা জোনের অন্যান্য অনিয়মের কথা শুনে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং বলেন আপনি(প্রতিবেদককে) দ্রুত মেয়র সাহেবের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরও চসিক অফিসে মেয়র আসতে দেরি হচ্ছে তাই এই প্রতিবেদক চলে আসেন এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েক বার ফোন কল দিলেও ব্যস্ততার কারণে হয়তো মেয়র ফোন কল রিসিভ করতে পারেন নাই।
এর আগেও গত মার্চ মাসে চসিকের অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারীদের কাছ থেকে চাকুরি স্থায়ী করার নামে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।
টেকনিশয়ান হতে চান হামিদা!
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাধারণ স্বাস্থ্য সহকারী থেকে বিতর্কিত হামিদা বেগম হতে চলেছেন কাপাশগোলা জোনের টেকনিশিয়ান! অভিযোগ ওঠেছে এটা ১০ লক্ষ টাকার আয়োজিত প্রমোশন। জানা গেছে, টেকনিশিয়ান মৃনাল দাস চলতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন।
চসিকের ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ডের শিশুদের টিকাদানকারী হামিদা বেগমের নেই কোন টেকনিক্যাল দক্ষতা তবু তিনি হতে চান টেকনিশিয়ান!
এদিকে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ Expanded Program on Immunization বা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রমের আওতায় মা ও শিশুদের টিকা দান কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর (MR) টিকা প্রদান করে হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক পরিচালিত এই স্বাস্থ্য উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ও মায়েদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে সরকারিভাবে টিকা দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য সহকারী হামিদা বেগমকে টেকনিশিয়ান পদে প্রমোশনের প্রস্তুতি বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের ডা. খাদিজা আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, কাপাশগোলা জোনের টেকনিশিয়ানের পদটি সম্প্রতি খালি হয়। তবে সেখানে অনভিজ্ঞ কোন সাধারণ স্বাস্থ্য সহকারীকে নিয়োগ দেবার কথা নয়। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।
যোগাযোগ করা হলে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের ডা. রফিক জানান, হামিদার বিষয়ে আমার কথা বলার বা মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এদিকে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানাকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রেসপন্স না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধারাবাহিক প্রতিবেদন চলবে
চট্টগ্রামের তাজ-সিতাজ/এসটি