উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো অংকুর বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬
চট্টগ্রামের পাঁচ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা, অংশ নিল প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি মেধাবৃত্তি আয়োজন ‘অংকুর বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬’। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অংকুর শিশু-কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, চট্টগ্রাম উত্তর জোনের উদ্যোগে মহানগরের পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ বৃত্তি প্রকল্পের আয়োজন করা হয়।
পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন অংকুর বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান প্রফেসর নুরুন্নবী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম, উপদেষ্টা মুমিনুল হক, আহ্বায়ক খুররম মুরাদ, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান প্রফেসর নুরুন্নবী বলেন, ‘অংকুর এখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রিয় ঠিকানা ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যতিক্রমী বৃত্তি প্রকল্প শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম বলেন, ‘মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই অংকুরের অন্যতম লক্ষ্য। একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের বিকল্প নেই।’
প্রকল্পের আহ্বায়ক খুররম মুরাদ বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে অংকুর চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০০ সালে চালু হওয়া অংকুর বৃত্তি প্রকল্প দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ছোট পরিসর থেকে বৃহত্তর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। বৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া, বিতর্ক ও বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে অংকুর।’
এ সময় নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও বেশি উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
পরীক্ষা শেষে আয়োজক কমিটির সদস্য, কেন্দ্রপ্রধান, শিক্ষক, হল পরিদর্শক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আহ্বায়ক খুররম মুরাদ।
অন্যদিকে, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
সিতাজ/এসটি