আসামে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ সম্মিলিত মুসলিম কণ্ঠের প্রতিবাদ
আসামে মুসলমানদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্মিলিত মুসলিম কণ্ঠের সভাপতি সোহেল তাজ।
ভারতের আসাম রাজ্যের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় মাত্র দুই দিনে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবার উচ্ছেদের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত মুসলিম কণ্ঠের সভাপতি সোহেল তাজ। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। পাশাপাশি অভিযানে অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে সোহেল তাজ বলেন, “মানুষের মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া, নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংসের অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের অসহায়ত্বকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া নয়।”
তিনি বলেন, আসাম সরকার বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যুক্তি দেখালেও কয়েক দশক ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, মানবিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উপেক্ষা করা যায় না। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সোহেল তাজ আরও বলেন, “মসজিদ শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মুসলমানদের ইবাদত ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত পবিত্র স্থান। মসজিদ ভাঙার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কোনো জনগোষ্ঠীকে তার ধর্মীয় বা ভাষাগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না।”
তিনি ভারত সরকার ও আসাম রাজ্য সরকারের প্রতি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানবিক সহায়তা ও যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা, মসজিদ ভাঙার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সম্মিলিত মুসলিম কণ্ঠের সভাপতি সোহেল তাজ বলেন, “আমরা কোনো ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই; আমরা অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। আসামের অসহায় মুসলিম পরিবারগুলোর কান্না যেন বিশ্ববিবেকের কাছে হারিয়ে না যায়। মানবতার প্রশ্নে নীরবতা নয়, প্রয়োজন ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্মিলিত প্রতিবাদ।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ঘর ভাঙা মানে শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংস করা নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে দেওয়া। আমরা চাই, আসামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ আশ্রয় ফিরে পাক।”
![]()