সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেছে।
তিনি জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসভবন থেকে জব্দ করা নথিপত্রের মধ্যে প্রায় ৩০০টি সিডি পাওয়া যায়। এসব সিডি ও অন্যান্য তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের আরও সময় প্রয়োজন।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট করে বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া মানেই হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়িয়েছেন।
২০১২ সালে হত্যা করা হয় সাগর-রুনিকে
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে।
দীর্ঘ সময়েও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন আদালত। বর্তমানে ওই টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।
![]()