রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু সরাসরি হামলাকারীরাই নয়, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত থাকতে পারে, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার স্বার্থে মামলা দায়েরে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ কারণে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যদের কাছে শর্টগান ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কদলপুর এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস এবং দিদারুল আলম ওরফে দিদার প্রথমে যুবদল নেতা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় গুলি করে নিশ্চিত করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৩ জুন শনিবার দুপুরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন মাসুদ। পরে তিনি মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পার্বত্য এলাকায় আত্মগোপন করে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, পরিবার এখনও গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল না। কারা এবং কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত।
তিনি আরও জানান, নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুতই থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে শনাক্ত হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হত্যা মামলা। তার সহযোগী ধামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। এছাড়া ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বহু মামলা থাকলেও তাদের দৌরাত্ম্য থামানো যায়নি। ফলে প্রকাশ্যে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ। তদন্তকারীরা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সিতাজ/এসজিএন