শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
সদ্য সংবাদ
৮ নভেম্বর আগ্রাবাদ শাহ্ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্সের মাসিক ত্বরিকত বৈঠকশিক্ষকতা ও মানবিক জীবনদর্শনে কবি কুতুবউদ্দিন বখতেয়ারআসামে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ সম্মিলিত মুসলিম কণ্ঠের প্রতিবাদস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি জুবাইদার আহ্বানগ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত১০৭ জনের হাতে মোবাইল তুলে দিল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশসাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু
অপরাধ চট্টগ্রাম টপ নিউজ

অভিযুক্ত ওসি এখনো বহাল, প্রশ্নবিদ্ধ জবাবদিহি

অভিযুক্ত ওসি
শেয়ার করুন:

সোহেল তাজ: চট্টগ্রামে এক লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দের পর তা আত্মসাৎ এবং অভিযুক্ত পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসার পরও সংশ্লিষ্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে।

ঘটনাটি গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকায় ঘটে। পুলিশের নিজস্ব তদন্তে উঠে এসেছে, কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে কর্মরত এক কনস্টেবল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন করছিলেন। তল্লাশিচৌকিতে ধরা পড়লেও নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জব্দ করা ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয় এবং অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে এ কাজ করেন। সেই নির্দেশের পেছনে বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও মূল অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি বর্তমানে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তদন্তে গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। একই সঙ্গে আত্মসাৎ হওয়া এক লাখ ইয়াবা বড়ির অবস্থান এবং পাচার চক্রের মূল হোতাদের বিষয়ে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকাও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে মাদক পরিবহনে পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো অনিয়ম নাকি বড় কোনো সিন্ডিকেটের অংশ সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত বাহিনীর কোনো সদস্য যদি নিজেই মাদক পাচার বা আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলে তা জনআস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বর্তমান কমিশনার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই আলোচিত ইয়াবা কাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয় কি না।

সিতাজ/এস.জি.এন

Powered by Done 5 Technologies