G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

বাড়িতে বসে টিকা নিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

0

চট্টগ্রামের বাসায় বসে টিকা নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার শেষ না হতেই এবার খবরের শিরোনাম হলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। তিনিও নিজের বাসায় বসে করোনা প্রতিরোধক টিকা নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাব্যাপী সমালোচনা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর সদরে নিজের সরকারি বাসায় বসে টিকা নেন ময়না। অথচ, নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার বাসার দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

জানা গেছে, গণটিকা কার্যক্রম চলমান অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুজন কর্মী গিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি গিয়ে তাকে টিকা প্রদান করেন। ময়নাকে টিকা পুশ করেন টিকাবহনকারী। অথচ, টিকাদানকর্মী জহির উদ্দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে, চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়দানকারী জামিলুর রহমান টিকাদানের ছবি মোবাইলে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন।

পোস্টটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তানোর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। এ ছাড়া সাধারণ জনগণকে টিকা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয় ওই পোস্টে।

বাড়ি বসে চেয়ারম্যানের টিকা নেওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার শুরু হয়। এমনকি চেয়ারম্যানের এমন কাণ্ডে ক্ষোভ জানান এলাকার সচেতন লোকজন। এরপরই তড়িঘড়ি করে সেই পোস্ট মুছে দেন জামিলুর রহমান।

বাসায় বসে টিকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না জানান, গত ৩১মে তার করোনা প্রতিরোধক টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা ছিল। অসুস্থতাজনিত কারণে সময়মত টিকা নিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) গত কয়েকদিন ধরেই তাকে জানাচ্ছিলেন-ভ্যাকসিন এসেছে। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য তাগাদাও দিচ্ছিলেন। দাপ্তরিক কাজে আগামীকাল বুধবার নাগাদ তিনি ঢাকায় যাবেন। বিষয়টি টিএইচওকে ফোনে জানান। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার বাসায় টিকা পাঠানো হয়।’

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বার্নাবাস হাঁসদাকও চেয়ারম্যানের বাসায় দুই কর্মীসহ টিকা পাঠানোর বিয়ষটি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবর একটি বিশেষ ক্যাম্পেইনে চেয়ারম্যানের টিকা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু তিনি সেদিন থাকবেন না, সেহেতু আগেভাগেই তার বাসায় ভ্যাকসিনসহ টিকাদানকর্মী পাঠানো হয়েছে। টিকাদানকর্মী জহির উদ্দিন ওই সময় সেখানে ছিলেন। তিনি টিকা পুশ না করলেও তার তত্ত্বাবধানেই আরেকজন টিকা পুশ করেছেন।’

এ বিষয়ে চানতে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদাররের মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে কোনোভাবেই টিকাদানের সুযোগ নেই। এমনকি ক্যাম্পেইন চলাকালেও বাসায় গিয়ে টিকাদানের সুযোগ নেই। আগে থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। যিনি নিয়েছেন এবং যিনি দিয়েছেন- এই ঘটনায় দুজনই দায়ী। বিষয়টি সিভিল সর্জন দপ্তর খতিয়ে দেখবে। এই ঘটনায় কারও অবহেলা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, সারাদেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন চলাকালে গত ৭ আগস্ট বাসায় বসে করোনার টিকা নেন চট্টগ্রামের এক ব্যাংকার ও এক ব্যবসায়ী। ঘটনা জানাজানি হলে টিকাগ্রহীতা ও সহায়তাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাসায় বসে টিকা নেওয়ার পর তারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

সি-তাজ২৪.কম/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.