প্রভাস চক্রবর্ত্তী,বোয়ালখালী: বোয়ালখালী থানার সার্ব্বিক সহযোগিতায় কধুরখীল জগদানন্দ মিশন থেকে প্রতি বৎসর ন্যায়,এবারও আনন্দ ও উদ্দীপনায় পালিত হল জগন্নাথের রথযাত্রা। শতশত ভক্ত নর-নারী গন সহ এ রথ শোভা যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ “র’ দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সাজীব বৈদ্য,মিশনের সাধারণত সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী,ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ” র’ সভাপতি সরোজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ প্রভাস চক্রবর্ত্তী,সহ সভাপতি অরুপ চৌধুরী( মিল্টন),বিষুরাম বসু (শাটু),এবারগ্রীন ডায়ঃসেন্টারের ডাঃ সুবল দাশ,শ্যামল বিশ্বাস,জুয়েল চৌধুরী,শিমুল পাল,শিক্ষিকা ডেইজি ভট্টাচার্য্য,বিকাশ সিকদার সুব্রত দত্ত ( রাজু),সুমন দে,প্রিয়ঞ্জিত চক্রবর্ত্তী,জয়দীপ চক্রবর্ত্তী, উৎফল চৌধুরী,,রানা চৌধুরী,প্রদীপ দে,সহ সু্হ্রদ ক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ রথযাত্রা পূর্ব গোমদন্ডী লোকনাথ মন্দির প্রাঙ্গনে পবিত্র সহকারে স্হাপন করে আগত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
রথে থাকা জগন্নাথ দেবের ১০ দিন পর্যন্ত ভোগ আরতি সহ পূজা বন্দনা চলবে এ লোকনাথ মন্দিরে। ফিরতি রথের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি ঘটবে।
রথের চারধাম যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রবর্ত্তক সহ রামঠাকুর আশ্রম কৈবিল্যধাম,জগন্নাথ মন্দিরে রথ উপলক্ষে শতশত ভক্ত সমাবেশ হয়।
প্রতি বছর আষাঢ় মাসে এখানে একটি বিশাল রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। জগন্নাথ মানে পৃথিবীর আবাস। ভগবান জগন্নাথ শ্রী হরিকে বিষ্ণুর অবতার শ্রী কৃষ্ণের রূপ মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মে জগন্নাথ রথযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
জগন্নাথ রথযাত্রায় ভক্তদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। হিন্দু ধর্ম অনুসারে এখানে ভগবান কৃষ্ণ বলরাম ও তাঁর ছোট বোন সুভদ্রার পূজা করা হয়। এটি বিশ্বাস করা হয় যে জগন্নাথ রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির জীবন থেকে সমস্ত দুঃখ, বেদনা, যন্ত্রণার অবসান ঘটে।
মানুষের জগন্নাথ রথযাত্রার পিছনে একটি বিশ্বাস যে ঈশ্বর মানুষের অবস্থা জানতে তার গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসেন। বিশ্বাস করা হয় যে এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্ত সহস্র যজ্ঞ করার ফল লাভ করেন। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে যারা এই যাত্রায় অংশ নেয় তারা মোক্ষ লাভ করে।
হিন্দু ধর্মে একটি বিশ্বাস আছে যে রথযাত্রা হল একটি উৎসব যেখানে ভগবান জগন্নাথ হেঁটে আসেন এবং তাঁর ভক্তদের মধ্যে আসেন এবং তাদের দুঃখ ও সুখে অংশগ্রহণ করেন। শাস্ত্র ও পুরাণেও এর গুরুত্ব বলা হয়েছে। স্কন্দপুরাণে স্পষ্ট বলা আছে যে রথযাত্রায় যে যোগ দেয় সে তিনি জীবন-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হন।
সি-তাজ২৪.কম/এস.টি