জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হলো। এর আগে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখন থেকে রাঙ্গার সঙ্গে জাপার আর কোনো সম্পর্ক রইল না। এদিকে রাঙ্গাকে সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদ থেকেও অব্যাহতি দেন পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। কিন্তু এর কিছু সময় পরই অপর চিঠিতে হুইপের পদে বহাল রাখার চিঠি গণমাধ্যমে পাঠায় জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল শুক্রবার জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলীয় গঠণতন্ত্রের ধারা ২২ উপধারা ২-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
রাঙ্গাকে চিফ হুইপ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই এই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মসিউর রহমান রাঙ্গা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদে বহাল আছেন। তবে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যাপারে রওশন এরশাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
মসিউর রহমান রাঙ্গাকে জাপা থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গতকাল রাতে বলেন, ‘তাকে পার্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে তার সঙ্গে জাপার আর কোনো সম্পর্ক রইল না। তিনি তো নিজেই বলেছেন, জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন যে দল, সেই দলে তিনি থাকবেন না। তার মানে তিনি তো নিজেই চলে গেলেন। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম।’
একইভাবে রাঙ্গাকে দল ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পদ থেকে অব্যাহতির ঘটনা সত্য বলে জানিয়েছেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই সভায় আমি ছিলাম। তাকে (রাঙ্গা) বাদ দেওয়া হয়েছে। পার্টির গঠণতন্ত্রবহির্ভূত কর্মকান্ডের জন্য তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত সাংগঠনিকভাবে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের রাজনৈতিক সচিব মমিনুল ইসলাম। তিনি উনি (জি এম কাদের) দুটোর কোনোটাই দিতে পারেন না। কারণ প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ দলীয় গঠণতন্ত্রের ধারা ২২ উপধারা ২-এর সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। সে অনুযায়ী পার্টির চেয়ারম্যান কোনো সদস্যকে পার্টি থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন না। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও উপনেতা ঠিক করেন বিরোধীদলীয় নেতা। রওশন এরশাদ যদি চিঠি দিয়ে বলেন, জি এম কাদের আর চেয়ারম্যান নেই, তাহলে সেটাই ঠিক হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যানের দলীয় গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছিলেন। ইতিমধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।
এদিকে জাপার প্রধান পৃষ্ঠাপোষক রওশন এরশাদের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রওশন এরশাদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পরিবর্তন করা হয়নি। এ ব্যাপারে স্পিকারকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।
প্রেস উইং সদস্য কাজী লুৎফুল কবীরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদীয় ধারা ও বিধিবিধানকে অবজ্ঞা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের অগণতান্ত্রিক ধারা ব্যবহার দেখিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, দলীয় চেয়ারম্যানের প্যাডে লিখিত পত্রে সংসদের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানানোর ঘটনা তার অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
রওশন এরশাদ আরও বলেন, সংসদের ধারা মোতাবেক কাউকে কোনো পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে, সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে একমাত্র স্পিকার; যা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পার্টির পার্লামেন্টারি দল বা নেতা বা উপনেতাও এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করতে পারেন না অথবা দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয় না। দল শুধু স্পিকারের কাছে আবেদন করতে পারে। মসিউর রহমান রাঙ্গাই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে বহাল আছেন।
সি-তাজ২৪.এস.টি