কক্সবাজার : ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মিয়ানমারের আরাকান উপকূলে রবিবার(১৪ মে ২০২৩) আঘাত হানতে পারে। এই অবস্থায় লাখ লাখ মানুষ মহান আল্লাহতায়ার নিকট নানাভাবে প্রার্থনা করছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। জীবন বাঁচানো ফরজ।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তারা নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ) । ঘূর্ণিঝড়ের মত বিপদে যে দোয়া পড়বেন:
পবিত্র কুরআনের বিশেষ দোয়া-
‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’
অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১২)
প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসলাদি নষ্ট হয় বা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন-
‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’ (বুখারি)
জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়া পড়তেন-
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।
বাতাশ থেকে বাঁচতে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়া পড়তেন-
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে (বুখারি)।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার মত বিপদে দোয়া দরুদ পড়ে সবধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সবার উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
মহান আল্লাহতায়ালা সবাইকে হেফাজত করুন।