G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে তিনি ২১ মে, ২০২৬ এ নির্দেশনা দেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম আজ এ তথ্য জানান।

ড. রেজাউল করিম আরো জানিয়েছেন, একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন আইনমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন : শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে তার বাবা

জনাব মো. আসাদুজ্জামান ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মাতা বেগম রোকেয়া।

জনাব মো. আসাদুজ্জামান-এর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় নিজ জেলা ঝিনাইদহে। তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৮৭ সালে এসএসসি ও ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।

জনাব মো. আসাদুজ্জামান ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি জনাব নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এর প্রতিষ্ঠিত সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এন্ড এসোসিয়েটস এর আইন চেম্বারের অংশীদার (পার্টনার)হন। এরপর মেধা, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে দ্রুত আইন পেশায় সফলতা লাভ করেন তিনি। রীট, ট্যাক্স, কোম্পানি ও দেওয়ানি আইনে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন।

আইন পেশার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি বিএনপি‘র জাতীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বিএনপি‘র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনাব মো. আসাদুজ্জামান মানবাধিকারকর্মী হিসেবে দেশে-বিদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর প্রায় এক বছর পাঁচ মাস অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তিনি জাতীয় সংসদের আসন নং ৮১, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পান ৫৭ হাজার ০৫৫ ভোট। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। একই দিন তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের কেবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জনাব মো. আসাদুজ্জামান বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক।

 

সিতাজ/এসটি

Leave A Reply

Your email address will not be published.