রাঙামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে রাঙামাটিসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। পদত্যাগের কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তাঁর অনুসারীরা পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সোমবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, শুধুমাত্র অসুস্থতা নয়, অন্য কোনো চাপ বা রাজনৈতিক কারণও এ সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিকেলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, দীপেন দেওয়ানকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তারা তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে পুনরায় মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রভাব এবং জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জের ধরে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত বক্তব্য দেননি।
দীপেন দেওয়ান প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। পরে তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় বাড়াতে কাজ শুরু করেছিলেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাজামং মারমা দাবি করেন, দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তাই তাঁর পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো দীপেন দেওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও কৌতূহল আরও বেড়েছে।
/এস.টি