G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

চন্দনাইশে রাতভর পাহাড় কাটা প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পাহাড় নিধনের অভিযোগ!

0

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার অঙ্গীকারে যখন বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, তখন চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ঘটে এক ভিন্ন চিত্র। পরিবেশ দিবসের দিনেই প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার লট এলাহাবাদ এলাকায় জব্বার চেয়ারম্যানের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পাশের কারিগরের ঘর সংলগ্ন ৩ নম্বর ব্রিজ এলাকায় গত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে পাহাড় কাটার কার্যক্রম শুরু হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সকাল পেরিয়ে দিনের বেলাতেও সেই কার্যক্রম চলমান থাকে এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় পর্যন্ত ঘটনাস্থলে স্কেভেটর ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক ট্রাক অবস্থান করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখেও পড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে এ ধরনের পাহাড় কাটা ভবিষ্যতে ভূমিধস ও প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
চট্টগ্রামের ইতিহাসে পাহাড় ধসের করুণ স্মৃতি এখনো মানুষের মনে দগদগে। অতীতে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার পরও যদি পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, রাত ৩টা থেকে দিনের আলো পর্যন্ত যদি স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হয় এবং মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসেনি কীভাবে? প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিনে পরিবেশ রক্ষার শপথ নেওয়ার পরিবর্তে যদি পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়, তবে তা পরিবেশ দিবসের চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সচেতন মহলের মতে, সভা-সেমিনার ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি খোলা আবেদন চট্টগ্রামের মাননীয় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের প্রতি জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা, পাহাড় কাটা বন্ধ, ব্যবহৃত স্কাভেটর ও ট্রাক জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

একটি পাহাড় ধ্বংস হওয়া মানে শুধু কিছু মাটি হারিয়ে যাওয়া নয়; হারিয়ে যায় প্রকৃতির ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, জলধারণ ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ পরিবেশ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই দিনে চন্দনাইশবাসীর একটাই প্রশ্ন পাহাড় রক্ষার দায়িত্ব কার, আর সেই দায়িত্ব পালনে প্রশাসন কতটা সচেতন?

পাহাড় বাঁচান, পরিবেশ বাঁচান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচান বলে দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স। তারা বলেন, প্রশাসনের নাটকীয় নীরবতার কারণে মাটি খেকোরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রশাসন জোরালো ভূমিকা পালন করলে মাটি খেকোরা এতোটা বেপরোয়া হয়ে ওঠতে পারতো না। এর জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্হানীয় রাজনৈতিক হোতা জড়িত।

/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.