নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি যাত্রীবাহী বাস, ১০টি লাঠি, চার টুকরা সাদা কাপড় এবং ১৩টি ইটের টুকরাও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে বন্দরের বারেক বিল্ডিং এলাকায় সংঘটিত মিছিলের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হালিশহর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. ওমর ফারুক, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ রেজা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন সক্রিয় নেতা-কর্মী। এছাড়া কর্ণফুলী থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মো. ইরফানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সদর ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বারেক বিল্ডিং এলাকায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে একটি মিছিল বের করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলকারীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মিছিলে অংশ নেওয়া ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মিছিলের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মিছিলটি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত করা হয়েছিল এবং এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে আগ্রাবাদ এলাকায় মিছিল করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মিছিলের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে মিছিলের ঘটনা এবং পরবর্তী গ্রেপ্তার অভিযান রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে।
/এস.টি