নিউজ ডেস্ক: দেশের সার্বিক ও সুষম উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকলেও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্য সংবিধান বা আইনে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারিত নেই। তবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য—উভয়েরই কাজ করার সুযোগ ও অধিকার রয়েছে। সরকার বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় তিনি বলেন, “আপনার এলাকার উন্নয়নে আমার সহযোগিতা প্রয়োজন হলে জানাবেন, আমি সহযোগিতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
পরে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন দর্শন এবং বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ পরিচালনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে ঈদের আগে এলজিইডির কিছু উন্নয়ন সহায়তা কয়েকজন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্যে বিশ্বাস করে না। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি দলের মতো বিরোধী দলের নির্বাচনী এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। তিনি বলেন, “লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছেই জবাবদিহিমূলক। তিনি বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেকোনো যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমালোচনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সিতাজ/এস.টি