G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

সবার কথা মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

0

সিতাজ ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রয়োজন, সুবিধা-অসুবিধা এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কাউকে বাইরে রাখা হবে না। তাদের সুবিধা-অসুবিধা এবং জীবনযাত্রার মানের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।”

সম্প্রতি দেশে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় জনগণের সুখ-দুঃখ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সীমিত রাজস্ব ও সম্পদের মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট দিতে চায়, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে সহায়তা করবে।

বড় বাজেটের প্রস্তুতি

সরকার আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এটি হবে নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষি সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ

তবে বড় বাজেট ঘোষণা করাই সরকারের একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান সংগ্রহ, অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাএসব বিষয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও বাজেট বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মূলত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে। ব্যবসায়ী মহল কর কাঠামো সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতির আশা করছে। অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট দিতে চায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রয়োজনকে সমানভাবে গুরুত্ব দেবে।

আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি এবং উন্নয়ন কৌশলের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। তখনই বোঝা যাবে, জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কতটা সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়েছে।

সিতাজ/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.