অনলাইন ডেস্ক: দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো ছাড়াও শাপলা চত্বর অভিযান এবং চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর অধিকাংশই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান প্রধান কৌঁসুলি। তদন্ত সংস্থা শিগগিরই এনসিবিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবে, যা পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর করা হবে।
এর আগে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিসের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আবেদনও করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, দেশে ফিরিয়ে আনা হলে বেনজীর আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। বিচারাধীন মামলাগুলোতে তাকে আদালতের মুখোমুখি করা হবে এবং তদন্তাধীন অভিযোগগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
সিতাজ/এস.টি