নিউজ ডেস্ক: কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নে ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোর্ড
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশের পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় তার শরীরে গুরুতর কোনো শারীরিক জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন
রোববার (১৪ জুন) কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, জিসানের প্রকৃত শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নির্ণয়ে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বোর্ডে রয়েছেন:
মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (আহ্বায়ক),অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ,নিউরো মেডিসিন বিভাগ,মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
সোমবার সকাল ১১টায় বোর্ডের সদস্যরা জিসানকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা সম্পর্কে মতামত দেবেন।
কী খতিয়ে দেখবে বোর্ড
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, জিসানের অসুস্থতার দাবি এবং তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থার মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, সেটিও বোর্ডের মূল্যায়নের আওতায় থাকবে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য কোনো জটিলতা ধরা পড়েনি।
বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা, হাসপাতালে রাখা বা ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবারের দাবি
জিসানের পরিবার বলছে, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। জিসানের ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল রাফি বলেন, “হাসপাতালে আমার বাবাই ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। সে চোখ খুলতে পারছে না, ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মেডিক্যাল বোর্ডের পরীক্ষার পর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।”
পুলিশ যা বলছে
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক জানান, ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা সুস্থ ঘোষণা করলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
ওসি আরও জানান, মামলার বাদী নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই প্রতিবেদন তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে অপহরণের দাবি উঠেছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে জিসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনের দিকেও নজর রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিতাজ/এস.টি