G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ, এরপর যা ঘটল তাতে উত্তাল পুরো এলাকা

0

শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তাল আদিতমারী, অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় শিশুর মরদেহ

মঙ্গলবার সকালে আদিতমারী উপজেলার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের দাবি, আগের দিন বিকেল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকালে গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটির এক আত্মীয়কে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে আটক করে। তবে গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন:চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা,আহত শিশু

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ির পথরোধ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে জনতার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালায়।

একপর্যায়ে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিসি, এসপি ও ইউএনও

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

সরকারি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় আবারও বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়।

এ সময় সরকারি গাড়িগুলো লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

হামলায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন:বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০ মামলার তদন্ত, দেশে ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

অন্তত ৩০ জন আহত

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য ব্যক্তিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

কিন্তু উত্তেজিত জনতা এতে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

প্রশাসন বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসিকে প্রত্যাহার

ঘটনার পরপরই আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, এটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এলাকায় এখন কী পরিস্থিতি?

প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় পৃথক তদন্তও চলমান রয়েছে।

আদিতমারীতে শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার পর জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এখন তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দিকেই নজর সবার।

সিতাজ/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.