আনোয়ারা প্রতিনিধি: দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এ প্রকল্পকে চট্টগ্রামের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানায়, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় আধুনিক সড়ক, বহুমুখী জেটি, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাকি প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।
কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থানকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ শিল্পাঞ্চল চালু হলে চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বেজা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কেমিক্যাল, অটোমোবাইল, পোশাক ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় সূচিত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সিতাজ/এম.কে