নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেলেও ঋণখেলাপির কারণে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। আইনজীবীদের মতে, পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এর আইনি পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে প্রয়োজন হলে ওই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপির অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগত বাধা থাকবে না।
নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও একটি ব্যাংক। নির্বাচন কমিশন এবং পরে হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখলেও বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায়।
আপিল বিভাগের নির্দেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করলেও গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ আটকে যায়।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেওয়ায় সংসদ সদস্য হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেল। এখন চট্টগ্রাম–৪ আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপর।
সিতাজ/এস.টি