খামেনির জানাজায় না যেতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
তেহরানের শেষকৃত্য ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিভিন্ন দেশকে ওই অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের তেহরানে প্রতিনিধি না পাঠানোর আহ্বান জানায়।
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ ছিল একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল খামেনির শেষকৃত্যে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ সীমিত রাখা।
মার্কো রুবিওর নামে গোপন নির্দেশনার দাবি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের কাছে একটি গোপন নির্দেশনা পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে নাকি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে জানাতে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং এর প্রভাব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে।
আরব ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
তাসনিমের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মার্কো রুবিও অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন।
এ ছাড়া আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, কোনো দেশ শেষকৃত্যে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি
প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে অন্তত ১৩টি দেশ শেষকৃত্যে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে
পূর্ব ইউরোপের ৩টি দেশ
আফ্রিকার ৫টি দেশ
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ২টি দেশ
পূর্ব এশিয়ার ২টি দেশ
তবে প্রতিবেদনে এসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের কাছে দুঃখ প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে
তাসনিমের দাবি, কিছু দেশ সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও মধ্যস্থতাকারী বা জেনেভা ও নিউইয়র্কে অবস্থিত নিজেদের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে ইরানকে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া কয়েকটি দেশ তেহরানে নিযুক্ত নিজেদের কূটনীতিকদের অনুষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও ইরান তা গ্রহণ করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাসনিমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের দাবি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে গোপন নির্দেশনা, সহায়তা কমানোর হুমকি এবং অন্তত ১৩টি দেশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অভিযোগ করা হলেও এসব দাবির বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সিতাজ/এস.টি