আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এত দীর্ঘ সময় মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামে সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন করার নির্দেশনা রয়েছে এবং রাসায়নিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণ (এম্বামিং) নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই খামেনির মরদেহ সংরক্ষণে রাসায়নিক নয়, আধুনিক শীতলীকরণ বা রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং মরদেহ হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশেষ অনুমতি পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও জানান, ইরানের ফরেনসিক মর্গে প্রয়োজনে কয়েক মাস পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। তাই চার মাস ধরে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় মরদেহ রাখা প্রযুক্তিগত ও আইনি—দুই দিক থেকেই সম্ভব।
বিশ্লেষকদের আরেকটি ধারণা হলো, হামলার কারণে মরদেহে গুরুতর ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। সে কারণে জনসমক্ষে পুরো মরদেহ প্রদর্শনের পরিবর্তে সীমিত আকারে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। দাফনের সময় ও স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টিও এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
জানা গেছে, তেহরানে গণশ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর শিয়া মুসলমানদের পবিত্র শহর কুমে আরেকটি শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এসব কর্মসূচিতে কয়েক কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বের বহু দেশের প্রতিনিধি ও হাজারো আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মী উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর এই দাফন শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনাতেও পরিণত হয়েছে। খামেনির শেষ বিদায় ঘিরে নজর এখন পুরো বিশ্বের।
সূত্র: ফক্স নিউজ
সিতাজ/এস.টি