Take a fresh look at your lifestyle.

সাতকানিয়ায় নারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, দুই দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

0

বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ; মাথায় সাত সেলাই, ওসির বক্তব্য মেলেনি

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জোসনা আকতার (৪৩) নামের এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ আগস্ট সকালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও ঘটনার দুই দিন পরও মামলা রুজু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জোসনা আকতার।

লিখিত অভিযোগে তিনি মোজাম্মেল হক (৪৫), তার ভাই ওমর ফারুক (৩৮) এবং মোজাম্মেল হকের স্ত্রী কহিনুর আক্তার (৩৮)-কে অভিযুক্ত করেছেন।

জোসনা আকতারের অভিযোগ, বসতভিটার সীমানা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জায়গার সীমানা পরিমাপ করে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আবারও বিরোধ দেখা দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২৭ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তার স্বামী কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাদের বসতঘরের সামনে গিয়ে রান্নাঘর ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে মোজাম্মেল হক হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ করেন জোসনা। এতে তার মাথার সামনের অংশ ও বাম চোখের ওপর কেটে যায়।

এ সময় ওমর ফারুক লাঠি দিয়ে তার বাম হাতের বাহু ও পিঠে আঘাত করেন এবং কহিনুর আক্তার চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

জোসনা আকতারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় কহিনুর আক্তার তার গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রিকশাযোগে তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দুই দিনেও সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। আহত অবস্থায় শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত থানায় বসে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জোসনা আকতার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে তাকে মারধর, প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।

মামলা গ্রহণে বিলম্বের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী জোসনা আকতার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিতাজ২৪/এন.পি

Leave A Reply

Your email address will not be published.