অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসার রাতটি লিওনেল মেসির জন্য ছিল সুখ-দুঃখের মিশেল। একদিকে তিনি নতুন গোলরেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে পেনাল্টি মিস করে নিজের নাম লিখিয়েছেন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সে লাউতারো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক মেসি। কিন্তু সবার বিস্ময় জাগিয়ে তার শট পোস্টের বাইরে চলে যায়।
এই ব্যর্থতার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা ফুটবলারের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে যান মেসি। এর আগে তিনি ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড এবং ২০২২ সালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মিসটি ছিল তার তৃতীয় ব্যর্থতা।
তবে ম্যাচে নিজের প্রভাব রাখতে বেশি সময় নেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। প্রথমার্ধের ৩৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে ভেঙে দেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেও পেনাল্টি মিসের ঘটনা আলোচনায় থেকে গেছে। কারণ, এতদিন ঘানার সাবেক তারকা আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন মেসি। এবার তিনি এককভাবেই সেই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাইব্রেকার বাদে ১৪৯টি পেনাল্টি নিয়েছেন মেসি। এর মধ্যে ৩৩ বার তিনি লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবুও রেকর্ড, সাফল্য ও অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই তার অবস্থান অটুট রয়েছে।
সিতাজ/এস.টি