বিশ্বব্যাপী অপরাধী শনাক্তকরণে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পদ্ধতির অন্যতম উদ্ভাবক, বিশ্ববরেণ্য বাঙালি বিজ্ঞানমনস্ক গণিতবিদ ও ব্রিটিশ ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা খানবাহাদুর কাজী আজিজুল হক-এর ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯ মে ২০২৬ বিকেলে চট্টগ্রাস্থ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র মিলনায়তনে এক স্মরণসভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইতিহাসের পাঠশালা (দি একাডেমি অব হিস্ট্রি)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক ও সম্পাদক সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনবিদ, পরিব্রাজক ও সমাজসেবক রোটারিয়ান এডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী। মুখ্য আলোচক ছিলেন পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাষা-আন্দোলন গবেষক ডা. ম.আ.আ. মুক্তাদীর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনবিদ কেএম আশরাফ, গবেষক সৈয়দ সরোয়ার আলম, কবি ও সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, কবি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ খান, মহিউদ্দিন খান চৌধুরী, জামশেদ আলম চৌধুরী, পারভেজ নুর লাভলু, জমীউল আলম এবং সৈকত বড়ুয়া প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, খানবাহাদুর কাজী আজিজুল হক ছিলেন উপমহাদেশের এক অসামান্য মেধাবী বাঙালি, যাঁর উদ্ভাবিত “হেনরি ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম” আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে অপরাধী শনাক্তকরণে বিশ্বব্যাপী যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। তাঁরা উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ আমলে উদ্ভাবিত এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করছে।
বক্তারা আরও বলেন, কাজী আজিজুল হকের মতো বিশ্বমানের বাঙালি বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকের অবদান জাতীয় ইতিহাসে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁরা তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি, স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সোহেল মো. ফখরুদ-দীন বলেন, “খানবাহাদুর কাজী আজিজুল হক কেবল একজন গণিতবিদ বা পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি ছিলেন আধুনিক অপরাধবিজ্ঞান ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
/এস.টি