স ম জিয়াউর রহমান : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর-খিরাম ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে তিন শতাধিক পুরোনো গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গোড়া, ডালপালা ও কাটা কাঠের স্তূপ পড়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাছ স্থানীয় একটি স মিলের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিনের এসব গাছ পথচারীদের ছায়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট মালিকদের গাছ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধারকৃত কাঠ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং কাটা গাছের পরিবর্তে অন্তত দ্বিগুণ সংখ্যক চারা রোপণের দাবি জানিয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়বে।
/এস.টি