বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত মূল আয়োজনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এইসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের উন্নয়নের যে গতি, তা কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে গেছে। একদিকে করোনাভাইরাসের অভিঘাত, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই মন্দা মোকাবিলায় আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। ফায়ার সার্ভিসকে অনেক জমি দিয়েছি আমরা। যার যেখানে কর্মস্থল এবং যার যেখানে খালি জমি আছে, সেখানে আপনারা বৃক্ষ রোপণ করবেন। নিজেদের চাহিদা নিজেরা পূরণ করার চেষ্টা করবেন, যাতে বিশ্বের এই মন্দাটা আমাদের দেশে না পড়ে।
উন্নয়নকে একটি ‘ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার একটানা ক্ষমতায় আছে বলে উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে, দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।
তিনি বলেন, এই মর্যাদাটাকে বাস্তবায়ন করা, ধরে রাখা এবং এ মর্যাদা নিয়ে আমরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের প্রত্যয় এবং লক্ষ্য।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের আজীবন রেশন সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমি জানি সারাজীবন আগুন-ধোঁয়ায় কাজ করতে হয় বিধায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসর বয়সে নানা রকম ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আজীবন রেশন প্রদানের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করার কাজও হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১ হাজার ১৮৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে পাঠিয়ে পেশাগত বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লিঙ্গসমতা দূর করতে ‘ফায়ারম্যান’ পদের নাম ‘ফায়ার ফাইটার’ করা হয়েছে। পরিদর্শকের সংখ্যা ৫০ থেকে ২৬৮, ডুবুরির সংখ্যা ২৫ থেকে ৮৫, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা ৫০ থেকে ১৯২, আগুন নেভানোর পানিবাহী গাড়ির সংখ্যা ২২৭ থেকে ৬১৭ এবং ফায়ার পাম্পের সংখ্যা ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৪৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
সি-তাজ২৪.কম/এস.টি