নিউজ ডেস্ক: অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বহুল আলোচিত দ্বি–বার্ষিক নির্বাচন। আগামীকাল শনিবার আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত গত ১৮ মে’র বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন চেম্বারের যুগ্ম সচিব নুরুল আবসার।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন বোর্ড। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম। এতে প্রায় ১৫০ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী অংশ নেন এবং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাটকীয় পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে নির্বাচন বোর্ড ঘোষিত তফসিল ও চলমান নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপরও স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনায় আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন দায়ের করা হলে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
ফলে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন–১ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক পত্রে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট পর্যবেক্ষক টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচন চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
/এস.টি