G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে নিইনি’হাসনাত আবদুল্লাহ

0

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জেলা পরিষদের প্রশাসকের করা অভিযোগকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে তা কোনো ব্যক্তির কাছে দেওয়া হয়নি, বরং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার কুমিল্লায় এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি নেতারা জেলা পরিষদ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। তার বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়েছেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। বাস্তবে এটি ছিল উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ, যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তি সরাসরি এ ধরনের বরাদ্দ নিজের কাছে গ্রহণ করেন না। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

দেবীদ্বারের সংসদ সদস্য আরও বলেন, স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সবসময় বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আরও বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নিতেও তিনি পিছপা হবেন না।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, আলোচিত অর্থের একটি বড় অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে নয়, বরং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের অংশ হিসেবে বরাদ্দ হয়েছিল।

তিনি জানান, দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কাছে রয়েছে।

এনসিপি নেতা বলেন, জনগণের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রচার করা হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ও উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়ই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে প্রকৃত চিত্র জানতে সরকারি নথি, প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিবেদন এবং আর্থিক হিসাব যাচাই করা জরুরি।

এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্য এবং হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যাখ্যা নিয়ে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের বিতর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যাই জনআস্থা বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.