G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

একাত্তরের পরাজিত যোদ্ধারা ফণা তোলার চেষ্টা করছে-শামা ওবায়েদ

0

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনও নানা ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তার মতে, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং তাদের সহযোগীরা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পরও ষড়যন্ত্র থামেনি
শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণের ওপর যে রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল, তা জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কিন্তু সেই শক্তির অনুসারীরা এখনও নানাভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে।

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগবক্তব্যে তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর থেকে জিয়া পরিবারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন বাংলাদেশ দেখতে চায় না, তারাই বারবার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার কারণেই জিয়া পরিবার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের প্রশংসা
আলোচনা সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যঘাটতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে জিয়া দেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তার মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, শিল্পায়ন, গার্মেন্টস খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
যুবসমাজ ও নারীর ক্ষমতায়নের স্বপ্ন
শামা ওবায়েদ বলেন, জিয়াউর রহমান এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন যেখানে যুবসমাজ শিক্ষিত হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবসম্পদ উন্নয়নই টেকসই অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এই চিন্তা থেকেই জিয়া শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রেমিট্যান্স ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স খাতের প্রসারে জিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তার সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন পরিচিতি লাভ করে এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য জিয়া যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, তার সুফল বাংলাদেশ এখনও ভোগ করছে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
সভা শেষে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.