নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত আওয়ামী যুবলীগের কিছু নেতা-কর্মী। শুক্রবার সকালে নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দিকে বন্দর এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শেখ মুজিব সড়ক অতিক্রম করে আগ্রাবাদ মোড়ে আসে। পরে মিছিলকারীরা বিদ্যুৎ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে ছিলেন, যা কাফনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও ফেস্টুনে শিশু মৃত্যুর ঘটনা, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার দাবি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদসংবলিত বিভিন্ন বার্তা লেখা ছিল।
মিছিলটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিছিলের আয়োজনের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. গোলাম সামদানী জনির নাম আলোচনায় এসেছে। যদিও তাঁর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এসব বিষয় তুলে ধরতেই তারা কর্মসূচি পালন করেছেন বলে মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরে এমন কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন প্রতীকীভাবে অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যতিক্রমী পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সামাজিক ইস্যুগুলো সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তবে কর্মসূচিটি ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান, আইনগত দিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ও কৌতূহল অব্যাহত রয়েছে।
/এস.টি