Take a fresh look at your lifestyle.

বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি

0

অনলাইন ডেস্ক : মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে জাতীয় সংসদে নিজের অভিজ্ঞতা ও সফরের উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশ সফরে তার ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য ছিল না; বরং প্রতিটি বৈঠক, আলোচনা ও উদ্যোগে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ এবং দেশের মানুষের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে তিনি এ বক্তব্য দেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিদেশ সফরে অর্জিত যেকোনো ইতিবাচক ফলাফল কোনো ব্যক্তি বা সরকারের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের অর্জন।

দেশের মানুষের স্বার্থই ছিল মূল লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারকে দেশের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই মালয়েশিয়া ও চীন সফরে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সফরে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় আলোচনার সুযোগ ছিল না। প্রতিটি বৈঠকেই বাংলাদেশের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।

সফরের অর্জন বাংলাদেশের অর্জন

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ সফর থেকে যদি কোনো ইতিবাচক অর্জন আসে, তবে সেটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্জন।

তার ভাষায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি সাফল্য দেশের মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির পুনর্ব্যক্ত

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তার দলের বহুল ব্যবহৃত স্লোগান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিটি উদ্যোগে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই তাদের মূল নীতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং বৈদেশিক সম্পর্কের কৌশল সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে।

সংসদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রীর সফল মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন এবং কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদের সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিরোধী দলকেও ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রী শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নয়, বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক উৎসাহ পাওয়া গেছে, যা জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ছয় দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।

এই সফরে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বিনিয়োগ ফোরামে অংশগ্রহণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সফর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সংসদে সফরকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও সফরের কৌশলগত দিক নিয়ে মতামত দেন।

সংসদের আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াতে এ ধরনের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্পিকারের মন্তব্য

ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদের আলোচনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

তার মতে, ভবিষ্যতে এই সফরের ফলাফল দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিদেশ সফরে অর্জিত সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ নিলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। এখন নজর থাকবে সফরে হওয়া আলোচনা ও উদ্যোগগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে।

সিতাজ/এস,টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.