সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সদ্য সংবাদ
এনসিটিবিতে একযোগে ৯ কর্মকর্তা বদলিমা হওয়ার আগেই নিভে গেল তানিয়ার জীবন!ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশ হেফাজতেজেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে ১ কেজি ৪৮২ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারমেয়র থেকে প্রশাসক: চট্টগ্রাম সিটিতে শাহাদাতের নতুন দায়িত্বহাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে হামলার মামলা: বাদীকে হত্যার হুমকি, ৮ জন গ্রেপ্তারউৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো অংকুর বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬কাল আগ্রাবাদ শাহ্ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্সে মাসিক ত্বরিকত বৈঠক
টপ নিউজ কভার রাজনীতি

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা।
ডা.তাসনিম জারা।
শেয়ার করুন:

চাটগাঁর তাজ ডেস্ক |পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিক ডা. তাসনিম জারা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দলটির আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান তাসনিম জারা।

মানিক পশারীর দাফন ঘিরে কী ঘটেছিল?

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে পিরোজপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান ও নিজ এলাকায় দাফনের বিরোধিতা করেন।

পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহ নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় শোকাহত স্বজনদের। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশের নিরাপত্তায় পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট
তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এ দেশে কারও মৃত্যু হলে প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাফনের কাজে এগিয়ে আসেন। অথচ মানিক পশারীর পরিবারের ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

তাঁর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে দাফনের বিরোধিতা করে মিছিল ও প্রচারণা চালানো হয়। এতে স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবে শেষবিদায়ের আয়োজনও বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি নিজের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের থাকতে পারে কি?

‘রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা হাতে গেলে কী করবেন?’

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, নিজেদের নেতা-কর্মীদের জন্য মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হলে সেই নীতি অন্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল, বিরোধী দলে থাকতেই যদি একজন মৃত ব্যক্তিকে নিজের বসতভিটায় দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী করবেন?

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কারও স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে দাফন বাধাগ্রস্ত করা কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার জামায়াত নেতার

তবে মানিক পশারীর দাফনে জামায়াতের সাংগঠনিকভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জেলা জামায়াত কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ দাফনে বাধা দেননি। বরং দাফন সম্পন্ন করতে পুলিশকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

ফলে ঘটনার দায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কারা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

এনসিপির নীরবতা নিয়েও সমালোচনা

এদিকে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এমন একটি সংবেদনশীল ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিবাদ কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণের কথা বলা একটি রাজনৈতিক দলের এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে মানবিক মর্যাদা

মানিক পশারীর দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন করে সামনে এনেছে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, নাগরিক অধিকার এবং মৃত ব্যক্তির মর্যাদার বিষয়টি।

একজন মানুষের জীবদ্দশার রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা অতীতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে মৃত্যুর পর তাঁর দাফন ও শোকাহত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

পিরোজপুরের এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি সব পক্ষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্নটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

Loading

Powered by Done 5 Technologies