G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

হাদি হত্যা মামলার বাদী নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা হাদি

0

অনলাইন ডেস্ক: শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার পর তিনি বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

একটি দীর্ঘ লিখিত প্রতিক্রিয়ায় মাসুমা হাদি বলেন, এতদিন তিনি নীরব ছিলেন শুধুমাত্র তাঁর ভাইয়ের প্রতি সম্মান ও পরিবারের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে। তবে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে নানা মন্তব্য ও অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা তাঁকে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছে।

তিনি জানান, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঢাকায় এসে হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং চিকিৎসাকালীন পুরো সময় ভাইয়ের পাশেই ছিলেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালে থাকার সময় তিনি এক মুহূর্তের জন্যও সেখান থেকে সরেননি।

মাসুমা হাদির প্রশ্ন, তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কার অনুমতিতে আব্দুল্লাহ আল জাবেরকে মামলার বাদী করা হলো। তাঁর মতে, এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় নিহতের ভাই ওমর ফারুকও চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে ছিলেন। একই রিকশায় থাকা অবস্থায় হামলার ঘটনা ঘটে এবং তিনি নিজেও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়া মামলার বাদী নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তিনি।

মাসুমা হাদি আরও বলেন, তাঁদের পরিবার কখনো নিরাপত্তার কারণে মামলার বাদী হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেনি। কারা এ ধরনের তথ্য প্রচার করেছে এবং কীভাবে তা সামনে এসেছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাবের তাঁদের এলাকার সন্তান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আরও বেশি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিবারের নিকটজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার বাদী নির্ধারণ করা হলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিবৃতিতে ভাইয়ের চিকিৎসা নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নেন নিহতের ভাই ওমর ফারুক। ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

মাসুমা হাদি বলেন, পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই ওসমান হাদির চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য না জেনে মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু একটি শোকাহত পরিবারকে ঘিরে ভিত্তিহীন অভিযোগ বা অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে মামলার প্রাথমিক প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.