নিউজ ডেস্ক: রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার এবং জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন বা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ। তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।
তার ভাষায়, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের জন্য কাজ করার যে আদর্শ রেখে গেছেন, তার অন্যতম শিক্ষা হলো বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা।
সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব সামাজিক পরিবর্তন
দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যেক মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অনেক দ্রুত সম্ভব।
তার মতে, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার কাজ নয়; নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণ সবাইকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। সামাজিক বৈষম্য কমাতে এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সচ্ছল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব
নয়াপল্টনের কর্মসূচির আগে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে আয়োজিত আরেকটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি জানান, সেদিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি শহরের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তারেক রহমান বলেন, “এই শহর আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার।”
তিনি মনে করেন, নগর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়। নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। মানুষের সচেতন আচরণই নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
সিটি করপোরেশন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রশংসা
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি করপোরেশন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে তাদের কাজ আরও সহজ করতে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, মানুষ যদি নিজেরা দায়িত্বশীল হয় এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলে, তাহলে শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা সম্ভব।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সুফল
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর শুধু দেখতে সুন্দর হয় না, এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানও উন্নত করে। পরিষ্কার রাস্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সুশৃঙ্খল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর মানে কম রোগব্যাধি, উন্নত জনস্বাস্থ্য এবং একটি বাসযোগ্য নগর পরিবেশ। একইসঙ্গে এটি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরও পড়ুনএকাত্তরের পরাজিত যোদ্ধারা ফণা তোলার চেষ্টা করছে-শামা ওবায়েদ
জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়াত পিতা জিয়াউর রহমান-কে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই জিয়াউর রহমান রাজনীতি করেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেননি, বরং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের একটি বাস্তবমুখী দর্শনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষের ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়েই তিনি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
উন্নয়নে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবান মানুষদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সমাজের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখে, তাহলে অল্প সময়েই দেশের মানুষের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।
জনগণই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জনগণের ক্ষমতা ও ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণ। জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।
তার মতে, জনগণের আস্থা, অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল আচরণই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই উন্নয়ন, সুশাসন এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বর্তমান সরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে সফল হবে।
/এস.টি