অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলায় ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।
শনিবার (২৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, মামলার ডিএনএ পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই অভিযোগপত্র বা চার্জশিট চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, রিপোর্ট আজ পাওয়া গেলে দ্রুত চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে। তদন্তের সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানা এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জবানবন্দিতে সোহেল দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে পাশের ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করেন বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে তা স্থানান্তরেরও চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, ফরেনসিক তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মামলার চার্জশিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। কিছু সময় পর স্কুলে যাওয়ার জন্য তাকে খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের ভেতরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার সময় বাসায় উপস্থিত থাকা এক নারীকে প্রাথমিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে তথ্য দেন এবং পরবর্তীতে আদালতেও জবানবন্দি প্রদান করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য, আলামত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ রিপোর্ট একত্র করে মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে তদন্ত অগ্রগতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় আবেদনও করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ডিএনএ রিপোর্ট মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি মামলার তথ্য-প্রমাণকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিচারিক কার্যক্রমে সহায়ক হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শিশু নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিবেশ ও অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এখন তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার দিকেই নজর সবার।
আরো পড়ুন:তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
/এস.টি