অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিন আরাফাতের ময়দান থেকে দেওয়া এবারের হজের খুতবায় কোরআনে বর্ণিত জালিম জাতি ও শাসকদের পরিণতি স্মরণ করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, তাকওয়া, ধৈর্য এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।
খুতবায় তিনি বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত কিছু চিরন্তন বিধান রয়েছে, যা মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা বহন করে। এসব বিধানের ওপর ঈমান রাখা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
সুরা আল-হজ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন এবং জুলুম ও বিশ্বাসঘাতকতাকে সমর্থন করেন না। অতীতে বহু জনপদকে সময় দেওয়া হলেও জুলুমে অবিচল থাকার কারণে তাদের ধ্বংস করা হয়েছে—এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় খুতবায়।
খতিব মুসলিম বিশ্বের জন্য দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন মুসলমানদের অবস্থা সংশোধন করেন, সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তাদের দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণ দান করেন।
খুতবায় আল্লাহর একত্ববাদ, আখিরাতের প্রস্তুতি, তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস, ধৈর্য ধারণ এবং নেক আমলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কেয়ামতের বাস্তবতা ও মানুষের চূড়ান্ত জবাবদিহিতার বিষয়েও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
হজের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলা হয়, পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একত্রিত হন। ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও হজ মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে।
খুতবায় হাজিদের বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, হজের পবিত্র স্থানগুলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময় ও পরিবেশ তৈরি করে। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ কামনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে হজযাত্রা সহজ হওয়া এবং হাজিদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার প্রার্থনা করা হয়।
মঙ্গলবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো হাজি। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থানই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা।
/এস.টি