অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে অর্থবিল ২০২৬ পাস হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ। নতুন অর্থবিল অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তাঁর সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত পৌনে চার লাখ টাকার পরিবর্তে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা এই সীমা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সুবিধা পাবেন।
অর্থবিলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ব্যাংক হিসাব খুলতে আর টিআইএন প্রয়োজন হবে না। এছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
এবারের অর্থবিলে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে এমন সমালোচনার মুখে জমির প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধান পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতেও পরিবর্তন এসেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের ভ্যাট কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাটও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়াতে চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি, পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে।
এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই বিধানের বাইরে থাকবে।
নতুন অর্থবিলে নির্দিষ্ট আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ঋণ গ্রহণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, মার্চেন্ট হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সিতাজ/এস.টি