G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় আর্সেনালকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল পিএসজি

টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা

0

অনলাইন ডেস্ক: ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল এবার উপহার দিল রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়েও নিষ্পত্তি না হওয়া ম্যাচে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।

বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালের মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। এরপর ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে, যেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় পিএসজি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল। ষষ্ঠ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় লন্ডনের ক্লাবটি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুল কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন। দ্রুত গোল হজম করলেও বিচলিত হয়নি পিএসজি। ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় তারা।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি প্যারিসের ক্লাবটি। অন্যদিকে আর্সেনালও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে পিএসজির রক্ষণভাগ তা ঠেকিয়ে দেয়।

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। পিএসজি আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালে চাপে পড়ে আর্সেনাল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন পিএসজির আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন উসমান দেম্বেলে। কোনো ভুল না করে জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।

সমতায় ফেরার পর পিএসজি আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। একবার শট পোস্টে লাগে, আবার কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়। অন্যদিকে আর্সেনালও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি।

ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। উভয় দলই গোলের সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।

অবশেষে শিরোপা নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের।

টাইব্রেকারে শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে এগোতে থাকে। তবে আর্সেনালের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পেয়ে যায় পিএসজি। যদিও আর্সেনালের গোলরক্ষক একটি শট ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক মুহূর্ত আসে আর্সেনালের শেষ শটে। দলের হয়ে শট নিতে এসে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বল পাঠিয়ে দেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে পিএসজির শেষ শট সফলভাবে জালে জড়ান লুকাস বেরালদো। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির।

এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে বিশেষ এক কীর্তি গড়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদই টানা একাধিকবার ইউরোপসেরা হওয়ার গৌরব ধরে রেখেছিল। এখন সেই এলিট তালিকায় নিজেদের নাম যুক্ত করল ফরাসি ক্লাবটি।

এক সময় ইউরোপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই ট্রফির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল পিএসজিকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির পরিকল্পিত বিনিয়োগ, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদেরকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর ক্লাবে পরিণত করেছে।

টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মাধ্যমে পিএসজি শুধু নিজেদের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য এটি ছিল স্বপ্নভঙ্গের রাত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছুঁতে না পারার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিকেল আর্তেতার দলকে। তবে তাদের লড়াই, সাহসিকতা এবং পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রুদ্ধশ্বাস এই ফাইনাল আবারও প্রমাণ করল, চ্যাম্পিয়নস লিগ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি আবেগ, নাটকীয়তা এবং ইতিহাস গড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।
/এস.টি

Leave A Reply

Your email address will not be published.