G-VV5KW25M6F
Take a fresh look at your lifestyle.

শ্বশুরকে কোটিপতি বানিয়েছেন যে কানুনগো

0

ঢাকা অফিস :  মিজানুর রহমান। শ্বশুরকে কোটিপতি বানিয়ে যে কানুনগো ঢাকা ও  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আর্থিক গোয়েন্দা ও দুনীর্তি দমন কমিশনে এখন ভাইরাল।

মিজানুর রহমান ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ৩নং ওয়ার্ড বড় বাজারের নাজির পুরের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের পুত্র।

দুনীর্তির অভিযোগ তদন্ত শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হতে আগাম চাকরি ছাড়া শত কোটি টাকার মালিক কে এই কানুনগো?

ভূমি অফিসে মুজিব নগর সার্ভিসের কোটায় চাকরী নিয়েছিলেন তিনি।  ৪ থেকে ৫ জেলায় ঘুরে ফিরে তিনি ২০ বছর চাকরী করেন। যেখানেই গেছেন নিজের কার্যালয়কে বানান দুর্নীতির আখড়া। অল্প সময়েই টাকার পাহাড় গড়ে তুলেন। সেই টাকায় নামে বেনামে কিনেছেন অঢেল সম্পদ, ২ মেয়েকে কয়েক কোটি টাকা খরচে ডাক্তারি পড়ান। ফাউভ স্টার হোটেলে বিলাসবহুল আয়োজনেও বিয়েও দিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই মিজানের রয়েছে অবৈধ ভাবে অর্জন করা কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অত্যন্ত কুটকৌশলী, দুর্নীতিবাজ ও চতুর মিজান শ্বশুড় শাশুড়ি, শালী, শালার নামে-সম্পদ ক্রয় করেন।  বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মচারী শ্বশুরকে রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বানিয়েছেন কানুনগো মিজানুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, শুধু চট্টগ্রামেই রয়েছে মিজানের শত কোটি টাকার সম্পদ।

খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার জাকির হোসেন রোডে রয়েছে ৩টি বড় সাইজের ফ্ল্যাট।  এগুলোর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। শ্বশুর জামাল উদ্দিনের নামে ক্রয়কৃত এ সব ফ্ল্যাট পরবর্তীতে মিজানের দুই মেয়ের নামে হেবা করে নেয়া হয়েছে।

পাহাড়তলী থানাধীন গ্রীণ ভিউ আবাসিক এলাকা এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার অধীনে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পদ। জমি ক্রয় করে সেখানে বড় বড় দুটি বহুতল ভবন তৈরি করেন মিজান।

প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকা, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বান্দরবানে কানুনগো মিজানের বিভিন্ন নামে রয়েছে আরও ৭০-৮০ কোটি টাকার সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স। চতুর এই কানুনগো কালো টাকা সাদাও করেছেন দফায় দফায়।

তথ্যানুসন্ধানে প্রকাশ, কানুনগো মিজানূর রহমানের আয়কর ফাইলে প্রথম দিকে এসব সম্পত্তির বিবরণ দেখা যায়নি। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু সম্পদ আয়কর ফাইলে যুক্ত করেছেন।

পতিত সরকারের ১৭ বছরের পুরো সময়টাই সরকারি চাকরির জীবনকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছেন এই মিজান। যেখানেই পোস্টিং নিয়ে গেছেন সেখানেই একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছেন।

তার স্ত্রী ২০ হাজার টাকা বেতনে  চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তার আসা যাওয়ার সুবিধার্থে তাকে মিজান ৪০ লাখ টাকার এফপ্রিমিও প্রাইভেট কার কিনে দিয়েছেন। তার স্ত্রীর নামেও রয়েছে চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বহু সম্পদ এবং ব্যাংক ব্যালেন্স।

ভূমির নথিপত্রে জালজালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া মিজান দুই মেয়েকে লেখা পড়া করান রাজকন্যার আদলে। সবশেষ ১কোটি ২০লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসিতে এমবিবিএস পড়ান।

বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন প্রায় কোটি টাকা খরচ করে। রাজকীয় আয়োজন ছিল ফাইভস্টার হোটেলে। জামাতাকেও দিয়েছেন ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার।

দূদক সূত্রে জানা যায়, খুব শিগগির ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও অন্যান্য জেলায় তদন্ত শেষ করে মিজানের অর্থ সম্পদের বিবরণী মামলার জন্য চূড়ান্ত হবে। সে সাথে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন : প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র পুরস্কার পেল যেসব নম্বর

সিতাজ/এসটি

Leave A Reply

Your email address will not be published.